আমার প্রিয় বই সমূহ

অনেকেই দেখছি বইয়ের তালিকা দিচ্ছে। আমি জীবনে খুব বেশি ধরণের বই পড়ার অবকাশ পাইনি। তবে পড়ার ক্ষেত্রে আমি সর্বভুক শ্রেণির পাঠক। যা পাই তাই পড়ি। ছোটবেলা থেকেই দেখে এসেছি প্রচুর গল্প-উপন্যাসে ঠাসা আমার মায়ের একটি বড়সড় বইয়ের আলমারি আছে। সেখান থেকেই আমার বই পড়ার হাতে খড়ি। আমার জীবন-মনন-চেতনা তে জুড়ে আছে যে কয়টি বই আছে তার তালিকা নিচে দিলামঃ

১) গল্পগুচ্ছ ও সঞ্চয়িতা- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। ছোট বেলা থেকেই মায়ের আলমারি থেকে তার বই পড়ে আসছি। এত আধুনিক মানুষ আর এ জীবনে পাব বলে মনে হয়না। জীবনের সর্বক্ষেত্রে তিনি আমার মাষ্টারমশাই। আমাকে স্বপ্ন দেখতে, ভালবাসতে এবং একজন বাঙ্গালী হতে শিখিয়েছেন। সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্না, আনন্দ-বিষাদ এই সব অনুভূতিগুলো কে অনুভব করতে শিখিয়েছেন।

২) সঞ্চিতা- কাজী নজরুল ইসলাম। এই কবিতার বইটি যখন পড়ি তখন প্রেম, বিদ্রোহ, দেশভক্তি সব অনুভূতিগুলো আমার মনের মধ্যে একাকার হয়ে উঠত বা আজও ওঠে। আমাকে মানবতাবাদী হতে শেখায়।

৩) সুকুমার সমগ্র। আসলে সুকুমার রায়ের এই সমগ্র বইটিই আমাদের বাড়িতে ছিল। এই সমগ্র বইটি যে অনেকগুলো বইয়ের সংকলন ছোটবেলায় তা বুঝতাম না। তাই আলাদা করে প্রত্যেকটি বইয়ের নাম লিখলাম না। আমার কাছে আজও এই বইটিই পুর্ণাংগ বই।

৪) পথের দাবি ও শ্রীকান্ত- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়। এই বইটিও আমি স্কুল বা কলেজজ়ীবনে পড়েছি। সে সময় নিজেকে শ্রীকান্তর মতো ডান-পিঠে বা পথের দাবীর ডাক্তারের মতো সাহসী বিপ্লবী মনে হত।

৫) অসমাপ্ত আত্মজীবনী- বংগবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। আমার চেতনার অনেকটা জুড়ে আছেন তিনি। দুঃখের মাঝে ধৈর্য, কষ্টের মাঝে হাসি, বিপদের মাঝে কঠিন মনোবল আর নীতির প্রশ্নে মাথা নিচু না করার মানসিকতা আমি তার জীবনীর মধ্যে পেয়েছি। কতটুকু শিখতে পেরেছি জানিনা। হয়ত কিছুই পারিনি। তবু তাকে জীবনের অন্যতম মহামানব ভাবতে পেরে আত্মতৃপ্তিটুকু পেয়েছি।

৬) কাকাবাবু সমগ্র, পূর্ব-পশ্চিম ও ছবির দেশে কবিতার দেশে- সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়। কাকাবাবুর ব্যাপারে একটি কথা বলতে চাই। আমি যখন ক্লাশ নাইন-টেনে পড়ি তখন এই সিরিজের প্রথম বইটি আমার হাতে আসে সেটা ছিল ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকের ঘটনা। আর শেষ বইটি পড়ি ২০১৪ সালে যখন আমি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাশ করে আরও দশ বছর চাকরি করছি। মজার বিষয় হলো এই কুড়িটি বছর ধরে কাকাবাবু সিরিজটি আমাকে মোহাবিষ্ট করে রেখেছিল।

৭) আমি বিজয় দেখেছি- এম, আর, আখতার মুকুল। সাগর পাবলিশার্স, বেইলি রোড থেকে লেখকের হাত থেকেই কিনেছিলাম বইটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়বার সময়। খুব সুন্দর করে গুছিয়ে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস লেখা।

৮) আমার বন্ধু রাশেদ- মুহম্মদ জাফর ইকবাল। চোখে পানি চলে আসার মতো ও রক্তে শিহরণ তোলার মতো মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক একটি কিশোর উপন্যাস।

৯) জোছনা ও জননীর গল্প- হুমায়ুন আহমেদ। আরেকটি সুন্দর উপন্যাস। মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে সহজ সাবলীল ভাষায় রচিত একটি সুখপাঠ্য উপন্যাস।

১০) লোটা কম্বল- সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়। আমার পড়া একটি অম্ল-মধুর, হাস্য-রস মিশ্রিত মধ্যবিত্ত ঘরের বর্ণনা সম্বলিত চমৎকার উপন্যাস।

১১) পরার্থপরতার অর্থনীতি-ডঃ আকবর আলী খান। অসাধারণ ভাবে অর্থনীতির মুল সুরটিকে সাধারণের মাঝে তুলে ধরা হয়েছে এই বইটিতে। অর্থনীতির সাথে কৌতুকের একটি যুগোপযোগি সংমিশ্রন।

১২) রামানুজন গণিত ও নিয়তি- রঞ্জন বন্দোপাধ্যায়। নতুন করে গণিতের জাদুকর রামানুজন কে পরিচয় করে দেবার মত একটি উপন্যাস। বই একবার হাতে নিলে, না পড়ে কেউ রেখে দিতে পারবে না বলে আমার বিশ্বাস।

১৩) যে গল্পের শেষ নেই- দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়। কিভাবে গল্প করতে করতে বিজ্ঞানের মত খটমটে বিষয় চর্চা করা যায় বা বিজ্ঞান শেখানো যায়, এই বইটি না পড়লে হয়ত অজানাই থেকে যেত আমার কাছে।

১৪) পরমানুর গঠন- ডঃ হারুন-অর-রশিদ। কি চমৎকার করে পরমানুর ভিতরকার না জানা কনিকাগুলোর বর্ণনা করেছেন লেখক এই বইটিতে। আমি ছেলেবেলায় এই বইটি পড়ে একেবারে মু-গ-ধ।

১৫) পড়ার বইয়ের বাইরে পড়া-শ্রীপান্থ। একটি অসাধারণ বই যেখানে জ্ঞান-পিপাসু মানুষদের জন্য বিভিন্ন বিষয়ের যেমনঃ ডিকশনারী, ছাপাখানা ইত্যাদির পেছনের গল্পটি বলা হয়েছে।

১৬) গণিতশাস্ত্রের ইতিহাস- কাজী মোতাহার হোসেন। বেশ মজার একটি বই। গণিতের সহজ-সুন্দর-সংক্ষিপ্ত একটি ইতিহাস।

১৭) দি সেলফিশ জিন ও দি ম্যাজিক অব রিয়েলিটি- রিচার্ড ডকিন্স। বিজ্ঞানের একেবার মৌলিক বিষয় জানার জন্য খুব সুন্দর একটি বই হলো দি ম্যাজিক অব রিয়েলিটি। একসময় ছিল আমার জীববিজ্ঞান পড়তে ভাল লাগত না। দি সেলফিশ জিন বইটি পড়ার পর সেই জীববিজ্ঞানে আমার আগ্রহ বাড়তে থাকে যা আজও আছে।

পরিশেষে একটি কথায় বলবো, বই পড়ুন-নিজেকে জানুন-দুনিয়াকে জানুন। প্রতিটি বই-ই আমাদের চেতনার বিকাশে বা নিজের মনের খোরাক মেটানোর জন্য একটি আদর্শ মাধ্যম।

  

types: 
Article

Facebook comments