আমরা তোমাদের বাঁচতে দিলাম না 
ক্ষমা চাইবার মুখ নেই, তোমাদের কাছে

আগুনে যখন পুড়ছিল নুসরাতের শরীর
দেবালয়ে সেই আঁচ পৌঁছেছিল কিনা জানি না
শুধু জানি প্রানী কুলের নিকৃষ্ট জাতি আমি
উটের মত বালিতে মুখ লুকোতেও পারি না
বাঁচাতেও পারি না।

এ সমাজ থেকে চলে গেলে বোন তনু 
আজও তোমার আত্মা ঘুরে মরে আদালতে
আজও শাপদেরা দাঁত বের করে হাসে
বিচার বিভাগ কে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে। 

যে বয়সে তুমি প্রজাপতি ধরবে গিয়ে
যখন তুমি রঙিন পৃথিবীর রঙ মাখবে গায়ে
তখন তুমি ছিন্নবিচ্ছিন্ন হয়ে গেলে 
নরকের কীটের নোংরা ছোবলে

কলমের উপর এসেছিল আঘাত একদিন
অভিজিৎ রায়রা যাত্রা করেছিল 
অনন্তের পথে
তখন আমরা কিছুই করিনি, 
দেশ চলেছে উল্টো রথে

মায়ের বুকে মানবতা ধ্বস্ত আজ
রুধিতে পারিনি দূর্নীতি লুট তরাজ
বিষণ্নতার কালো মেঘ বাংলার আকাশে
নাচে শকুনের দল, ডানা ঝাপ্টায় মানবতা
এরই মাঝে খাবার করে বিষকে আলিঙ্গন 
অসহায় জীবন ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে রয় ধ্বংসপ্রাপ্ত বিবেকের দিকে

নষ্ট হয় নদী, নষ্ট ক্ষেত
নষ্ট নারী পুরুষ, বিষন্ন নির্বেদ
নষ্ট হল সমাজ, নষ্ট অবতার
নষ্ট নেতাদের বিবেকের হাহাকার

পাপের বাটখারা বড্ড ভারী আজ
নিত্যদিন ধর্ষিতা জননী জন্মভূমি

এ আমারই একটুকরো মাতৃভূমি
আমারই সাড়ে তিন হাত জমিন জ্বলে
মায়ের বদন খানি মলিন আজ
আমি কি ভেসেছি নয়ন জলে?

মেলবোর্ন ১০.০৭.২০১৯

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *