নাড়ির টান

স্বভাবসুলভ আড্ডাবাজ বলতে যা বোঝায় মিলি অনেকটা সেরকম বয়স কতই বা হবে- সাত কিংবা আট স্কুলের বন্ধুদের সাথে সারাক্ষণ হা হা হি হি করেই চলেছে বন্ধুদের মধ্যে খুব না হলেও মোটামুটি জনপ্রিয় সে আর এই আড্ডাবাজ মেয়েটির পিছনে উৎসাহদাতার ভূমিকায় রয়েছেন মিলির বাবা শফিক বাবা বলেন, “সবাই আড্ডার মধ্যমনি হতে পারে না রে মা এটা একটা আর্টমিলি জানে আর্ট মানে আঁকিবুকি করা আড্ডার মাঝে কি আঁকাআকি আছে কে জানে মিলির মাথায় ঢোকে না যাক সে সব কথা

ক্লাশে সবাই যে মিলি কে খুব পাত্তা দেয় তা কিন্তু নয় তবে তাঁর বেশ কয়েকজন ভাল বন্ধু আছে যারা ওর সাথে আড্ডা দিয়ে, গল্প করে, খেলাধুলা করে বেশ মজা পায় এদের মধ্যে মিলির বেষ্ট ফ্রেণ্ড হল, কেতকী একেবারে যাকে বলে হরিহর আত্মা কেউ কাউকে এক টা দিনের জন্য না দেখে থাকতে পারে না বেশ লম্বা সম য়ের জন্য স্কুল ছুটি হলে, পিকনিকের নাম করে একজন আরেকজনের বাসায় গিয়ে হৈ হুল্লোড় করে তবে কেতকী হিন্দু পরিবারের সন্তান ওই কারণে অনেকে কেতকীর সাথে বন্ধুত্বে নাক সিটকোন যেমন ক্লাশের ইতিহাসের শিক্ষক খাঁন স্যার আসলে ওনার নাম রমিজউদ্দিন তবে  উনি খাঁন নামটি বেশ পছন্দ করেন শোনা যায় খাঁন স্যারের বাবা মুসলিম লীগের বেশ জাদরেল নেতা ছিলেন সেই সুবাদে খাঁন নামটি তাঁদের উপাধি হয়ে যায় সেই স্যার একদিন মিলি কে ডেকে নিয়ে গিয়ে কড়া করে এক ধমক দিয়েছিল, “কেতকী হলো হিন্দু-মালাঊনের জাত ওরা যাবে জাহান্নামে তুমি ভালা ঘরের মুসলমান বাবা মায়ের মাইয়া ওইসব গনিমতের মাল থুড়ি নাফরমান মাইয়ার লগে তোমার এত কিয়ের মাখামাখি আর যেন না দেখিমিলির মন খুব খারাপ হয় বাবা কে বলতেই বাবা বলে ওঠেন, “পাগলী মা আমার মানুষ তো রক্ত মাংসের গড়া মানুষই তাঁর মধ্যে আবার জাত ফাত কি রেকথাটি শুনে মিলি মনে মনে সাহস পায় বলা চলে সাহসের থেকেও ভরসা পায় যেন বাবা কে তাঁর হিরো মনে হয়

বাবা কে হিরো মনে হবার আরেকটি কারণ অবশ্য আছে পড়াশুনা করতে হবে, ভাল রেজাল্ট করতে হবে ইত্যাদি বিষয়ে মায়ের যতরকম কড়া শাসন আছে বাবার ততটাই আছে আস্কারা বাবার ওই একই কথা, “পড়াশুনা শিখে গন্ডমূর্খ, কুপমুন্ডক, পশু মনোবৃত্তি থাকার কোন মানে নেই মানুষের মত মানুষ হতে হবেপ্রায় মা বাবার মাঝে এই নিয়ে কথা কাটাকাটি চলতে থাকে বাবার মুখের কঠিন কঠিন শব্দগুলো না বুঝলেও, শুনতে শুনতে মিলির প্রায় মুখস্থ হয়ে গিয়েছে

এই কথা কাটাকাটির মধ্যে মা বলে উঠলেন, “ তুমি তাহলে তোমার মেয়েকে কিছু বলবে না? নিজে তো দেশ-জাতি-সমাজ উদ্ধারের জন্য লেখালেখি করে বেড়াচ্ছ তাতে কি ফল হচ্ছে শুনি কতগুলো হুমকি ধমকি ছাড়া আর পেয়েছ কিছু?”

শফিক মেয়েকে ইশারা করে চুপ করে যান প্রতিদিন প্রায় এভাবেই মা-বাবার মধ্যকার খুনসুটি শেষ হয় কিন্তু আজ কি যে হয়েছে মায়ের বাবা চুপ করে যাওয়ার পরেও মা বলতে লাগলেন, “যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চেয়েছ, সেটা পাচ্ছো সর্বোচ্চ আদালত রায় দিয়েছে মিরপুরের কসাই এর সেই রায় নিয়ে আন্দোলন করার কি দরকারবাবা তবুও চুপ করে থাকে মা রাগে গজগজ করে বলতে থাকেন, “অন্যসব ফেব্রুয়ারী মাসে নিজের বই আর বইমেলা নিয়ে মেতে থাকো এবার এর উপর আবার শুরু হয়েছে কি এক মঞ্চের আন্দোলন শাহবাগে রায় নাকি ঠিক হ্য় নাই……… তোমার এসবে জড়ানোর কি দরকার ওরা যা ভয়ঙ্কর! আমার কথা না হয় বাদ দিলাম, নিজের মেয়ের কথা তো ভাববে নাকি তোমার কিছু হলে ওর ভবিষ্যত কি হবে

বাবা মাথা নিচু করে হাসতে লাগলেন তারপর বললেন, “দেখো মিতা আমাদের পূর্বপুরুষেরা যদি স্বাধীকার আন্দোলন, স্বাধীনতার সংগ্রাম না করতেন তাহলে এই মুক্ত স্বদেশ কি আমরা পেতাম বলো? তাদেরও মা-বাবা-ভাই-বোন-বউ-মেয়ে ছিল আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি কিন্তু স্বাধীনতার ফসল ঘরে তুলতে পারি নাই কারণ ওইসব যুদ্ধাপরাধী রাজাকার আলবদর আল শামসদের হত্তা-কত্তাদের জন্য কাজ এখনও বাকি আছে স্বাধীনতা যুদ্ধের সেটাই করতে হবে আমাদের প্রজন্মের

মিলিরও মনে হয়েছে মা ঠিকই বলেছেন আসলেই বাবা এইবার বইমেলা থেকেও শাহবাগের ওই জায়গার গুরুত্ব বেশি দিচ্ছেন অন্যসব ফেব্রুয়ারী মাসে বাবার হাত ধরে বইমেলা তে যেতে মিলির ভালই লাগে তবে এইবার বইমেলা যাওয়া হয়েছে কম বরং শাহবাগে যাওয়া হয়েছে বেশি তবে এতে মা কেন এত ভয় পাচ্ছে সেটা মিলি বুঝতে পারে না

এদিকে আন্দোলন তীব্র থেকে তীব্রতর হতে থাকে তাতে সুফলও কিছু পাওয়া যেতে থাকে কিন্তু কোন আন্দোলনই রক্ত ছাড়া সফল হয় না এর মধ্যে কয়েকজন আন্দোলনকারী ব্লগার খুন হতে থাকে রাস্তা-ঘাটে এখন ব্লগার শব্দটি বেশ শোনা যায় এক গোষ্ঠি তো বলেই ফেলেছে যে ব্লগাররা সব নাস্তিক তাদের কে কতল করা জায়েজ এরা নাকি ব্লগ দিয়ে ইন্টারনেট চালায় মিলিও স্কুলে এই শব্দটি শুনেছে কিন্তু বোঝেনি বাড়িতে এসে মা কে জিজ্ঞাসা করতেই মা হেসে বলে উঠলেন, “ইন্টারনেট এর মাধ্যমে বিভিন্ন ব্লগে যারা লেখালেখি করে তাদের কে ব্লগার বলে তোমার বাবাও তো একজন ব্লগার

শুনে মিলি খুশি হয় স্কুলে গিয়ে ব্লগার শব্দটি শুনলে যেচে গিয়ে বলে যে ওর বাবা একজন ব্লগার কিন্তু এই খুশি মিলির বেশি দিন স্থায়ী হয় না স্কুলের মৌলভি শিক্ষক এবার মিলির কথা শুনে তেড়ে আসেন

অ্যা কি বল্লা মাইয়া তুমি? তুই ব্লগারের মাইয়া?” মুহুর্তের মধ্যে তুমি থেকে তুই তে নেমে আসেন স্যারবুজুর্গ কিছু লোকের ফাঁসির দাবিতে কি যে শুরু করছে অরা তো ইহুদি-নাসারা-হিন্দু-মালাউনদের থেকেও খারাপ সব যাইব জাহান্নামে

কথাগুলো শুনে মিলির হাসি একমুহুর্তে উবে যায় চোখ মুখ ফ্যাকাশে হয়ে যেতে থাকে মিলি কাঁদতে কাঁদতে বাড়ি এসে বাবা কে সব খুলে বলে শফিক মেয়ের মাথায় হাত বুলিয়ে বলে, “সবার কথায় কান দিতে হয় না মা

মিলি সান্তনা পায় এদিকে বইমেলা শেষ হয়ে আসে বাবা আবার পুরোনো রুটিনে ফিরে যান অফিস থেকে ফিরে মিলির সাথে খেলাধুলা আর ব্লগ লেখা তবে ওই শাহবাগে প্রতিদিন নিয়ম করে যান মাঝে মধ্যে মিলি কে নিয়েও যান মিলির ভালই লাগে ছোট ছোট ছেলেমেয়ে থেকে বৃদ্ধ পর্যন্ত হাতে জাতীয় পতাকা নিয়ে অথবা জাতীয় পতাকার রঙ্গে নিজেদের সাজিয়ে এক দফা আন্দোলনে নেমেছে সেখানে কেউ কাউকে জিজ্ঞাসা করছে না কে ব্লগার আর কে নাস্তিক বা কে হিন্দু না কে মুসলমান

এভাবে ভালই চলছিল হঠাৎ একদিন হেড স্যার মিলি আর কেতকী কে ডেকে পাঠান তাঁর ঘরে মিলি কেতকীর মুখ শুকিয়ে এতটুকু হয়ে যায় ওরা ভয়ে ভয়ে হেড স্যারের রুমের দিকে যেতে থাকে গিয়ে দেখেন কেতকীর আম্মু এসেছেন মিলি আর কেতকী কে নিয়ে যেতে মিলির বাবার নাকি কি হয়েছে হাসপাতালে আছেন শুনে মিলি কেতকী কে জড়িয়ে কাঁদতে থাকে কেতকী মিলির মাথায় হাত বুলিয়ে সান্তনা দেয় কেতকীর আম্মু মিলি কেতকী কে নিয়ে ছুটে যান হাসপাতালে  সেখানে গিয়ে মিলি দেখে তাঁর বাবার মাথায় হাতে পায়ে ব্যান্ডেজ বাঁধা তিনি অচেতন হয়ে হাসপাতালের বেডে শুয়ে আছেন বাবাকে ঘিরে অনেক ডাক্তার-নার্স ওদিকে মিতা আলুথালু বেশে পাগলের মত হাসপাতালের মাথা থেকে মাথা ছুটে বেড়াচ্ছে অনেক ভীড় হাসপাতালে ভীড়ের মধ্যে মিলি শুনতে পায় কিছু ফিস ফিস কথা কারা যেন বলাবলি করছে, “শালা ব্লগার নাস্তিক খুব বাইড়া গেছিল দিছিল শ্যাষ কইরা খুব জোড় বাইচ্যা গেল কিন্তু বাইচ্যা যাইব কই আবারও কোপ খাইবমিলি কথাটি শুনে বেশ ভয় পেয়ে যায় মিলি বুঝতে পারেনা যে তাঁর বাবা কি এমন অপরাধ করেছে যে তাঁকে এমনভাবে কুপিয়েছে

এরমধ্যে মিতা কেতকীর আম্মু কে অনুরোধ করে যেন মিলি কে এখান থেকে নিয়ে যায় আত্মীয় স্বজনেরা এখনও সবাই এসে পড়ে নি তাই এই মিলি কে আপাতত কেতকীদের বাসায় থাকতে হবে নিজের বাসা ছেড়ে বিশেষ করে বাবা কে ছেড়ে মিলির কিছুতেই কেতকীদের বাসায় যেতে ইচ্ছে করছে না অনেক বুঝিয়ে সুঝিয়ে নিয়ে আসতে হল মিলি কে হাসপাতাল থেকে

এরপর থেকে ঘটনা দ্রুত ঘটতে থাকে শফিক কিছুটা সুস্থ হয়ে বাসায় ফিরে আসেন হাসপাতালে রাখা নাকি নিরাপদ না মিলিরও তাই মনে হয় হাসপাতালের ওইসব দুষ্টু লোকদের কথা কানে বাজতে থাকে সবসময় শফিকের চাকরীটাও চলে যায় এরকম লোককে নাকি অফিসে রাখা বিপজ্জনক আজ অফিসের সামনের রাস্তায় কুপিয়েছে কাল যে অফিসের ভিতর ঢুকে কোপাবে না তার তো কোন গ্যারান্টি নেই মিলির মাঝে মাঝে বাবার বিভিন্ন কথা মনে হতে থাকে শফিক একদিন মিলি কে বলেছিল, “বিপদেরা পাঁচ ভাই বোন তাঁরা একা আসে না দল বেঁধে সবাই মিলে আসে

সত্যিই তাই হল একদিন মিলি দেখে কিছু লোক তাঁদের বাসার সব জিনিসপত্র নিয়ে যাচ্ছে শফিক বিছানায় শুয়ে ফ্যাল ফ্যাল করে দেখছে আর চোখের কোণ ভিজে উঠছে তাঁর বাবার অত বড় বইয়ের আলমারীটাও নিয়ে যাচ্ছে ওই বইয়ের আলমারীর ভিতর একটু জায়গায় তাঁর খেলনা থাকত ধীরে ধীরে মিলি দেখে খাট, পড়ার টেবিল, টিভি, ফ্রিজ একে একে সব নিয়ে যেতে থেক কিছু লোক মিলি আর সহ্য করতে পারে না প্রতিটি জিনিসের সাথে তাঁর আর বাবা-মায়ের পুরোনো স্মৃতি মনে পড়তে থাকে সে কাঁদতে কাঁদতে মার কাছে  যায় দেখে মাও মুখে আঁচল চাপা দিয়ে মুখ লুকিয়ে কাঁদছে মাকে কিছু জিজ্ঞাসা করতে ইচ্ছা হয় না পরে বাবা কে জিজ্ঞাসা করলে শফিক নিরবে তাকিয়ে থাকে মেয়ের দিকে শুধু অষ্ফুট স্বরে এতটুকু বলেন, “আমাদের চলে যেতে হবে রে মামিলি ঠিক বুঝতে পারে না মনে করে বাসা হয়ত পরিবর্তন করতে হবে কিন্তু পরেরদিন মিলি লক্ষ্য করল যে তাঁরা অসুস্থ শফিক কে নিয়ে এয়ারপোর্টে যাচ্ছে বাসায় কিছু পরিচিত মানুষ এসেছেন তাঁদের কে বিদায় দিতে কেতকীর কথা মিলির খুব মনে পড়ছে মিলির কেতকী আর তাঁর আম্মু এয়ারপোর্টে এসেছেন মিলিদের কে বিদায় জানাতে ওদের কে বিদায় দিতে গিয়ে তিনি বলতে থাকেন, “৭১ সালে আমিও মিলির মতই ছিলাম ওই সময় পাক বাহিনি রাজাকারদের জন্য ঘরবাড়ি ছেড়ে, প্রিয় জিনিসপত্র ছেড়ে, নিজের দেশ ছেড়ে ভারতে চলে যেতে হয়েছিল আমাদের ফিরে যে আসতে পারব তাঁর কোন আশা ছিল না ভগবানের কৃপায় আবার দেশে ফিরতে পেরেছি আবার কবে দেখা হবে জানি না দিদি ভাল থাকবেন

কথাটা মিলির কান দিয়ে ঢুকে মাথায় টং করে আঘাত করল আসলেই কি আর ফিরে আসতে পারবে না মিলি নিজের দেশে- নিজের মানুষদের কাছে কেতকী কে জড়িয়ে কাঁদতে থাকে সে চিরবিদায়ের সুর যেন বুকের ভিতর বাজতে থাকে তাঁর এয়ারপোর্টের ভিতর ঢুকে বাবার দিকে তাকিয়ে থাকে মিলি শফিক মেয়ের মনের ভাব বুঝতে পেরে বলেন, “মাতৃভূমি হলো মায়ের মত ভূমি আমাদের কে আগলে রাখে মায়ের মত করে সেটা ছাড়তে কষ্ট হবে বৈকি আমাকে বাঁচাতে গিয়ে তোকে নিজের দেশ, প্রাণের মানুষ, বইমেলা, স্কুল-বন্ধু ছেড়ে চলে যেতে হচ্ছে দুঃখ করিস না বড় হয়ে আবার ফিরে আসিস মাটি তেতারপর বিড়বিড় করে শফিক বলতে থাকেন, “পকেটে করে এক শিশি খাটি মাটি নিয়ে যাচ্ছি গো মা তোমার অন্যদেশে রাজনৈতিক আশ্রয় নিয়ে আমায় ভুলে যেও না গাছ কে গোড়া থেকে কেটে দিলে সেই গাছ দ্রুত মরে যায় কিন্তু শিকড় উপড়িয়ে অন্য জায়গায় রোপন করলেও সেই গাছ বাঁচে না তার মরণ হয় ধীরে ধীরে কষ্টে কষ্টেমিলির আজ যেন কি হয়েছে সব কথা মাথায় ঢুকে যাচ্ছে একটু আগে ঢুকেছিল কেতকীর মায়ের কথাটা আর এখন ঢুকল বাবার কথা, “বড় হয়ে আবার আসিসতাহলে এই যাওয়া একেবারের জন্য যাওয়া তাই বোধহয় হঠাৎ করে ইমিগ্রেশন লাইনে দাড়িয়ে মিলি গাইতে থাকে

আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালবাসি

চিরদিন তোমার আকাশ……………

আর পারে না শেষ করতে মিলি নাড়ি ছেড়ার কষ্ট বুকে বাজতে থাকে তাঁর

(এই গল্পের সব ঘটনা, চরিত্র কাল্পনিক লেখকের উদ্ভট মস্তিষ্কের অদ্ভুত কল্পনামাত্র)

types: 
Story

Facebook comments